নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চল। লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে কৃষি, নিরাপদ পানি ও মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর বাড়ছে চাপ। নদীভাঙনে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়ছেন উপকূলের মানুষ।
বরিশালের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার বিস্তারে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। দেখা দিচ্ছে নিরাপদ পানির সংকট। একই সঙ্গে নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। ভাঙন ও উপকূল ক্ষয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে কুয়াকাটাও। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। বেড়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হারও।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীর সংখ্যা ১ কোটি ৩৩ লাখ থেকে ১ কোটি ৯৯ লাখে পৌঁছাতে পারে। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের LoGIC প্রকল্পের আওতায় বরিশালের ৭২টি ইউনিয়নে জলবায়ু ঝুঁকি নিরূপণ করা হয়েছে। ৭১টি ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে।
মঙ্গলবার বরিশালে National Framework for Locally Led Adaptation (LLA) বিষয়ক কর্মশালায় জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার এসব বিষয় উঠে আসে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার। বিভাগের সব জেলার জেলা প্রশাসকরা অনলাইনে যুক্ত হন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত।
কর্মশালায় স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, অভিযোজন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। এ জন্য জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, দক্ষ জনবল এবং স্থানীয় উন্নয়ন ও বাজেট পরিকল্পনায় জলবায়ু ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

