নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হয়েছেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ -মুলাদী) আসনের ৩বারের সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনের মধ্যে তিনটিতেই নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া টিপু।
কিন্তু ২০২৬ সালে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সদ্য অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনে এত কম ভোট পেয়েছেন যে জামানতই হারিয়েছেন।আর এ নিয়ে পুরো সংসদীয় এলাকা জুড়ে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। অনেকেই বলছেন, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণেই গোলাম কিবরিয়া টিপুর লজ্জাজনক এ পরাজয়।
এ আসনের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন হিমেল বলেন, একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েও গোলাম কিবরিয়া টিপু এবারের নির্বাচনে জামানত হারানোর মতো ভোট পেয়েছেন, কারণ তিনি সবসময় জনবিচ্ছিন্ন একজন ব্যক্তি ছিলেন। তার ওপর আর্থিক দাম্ভিকতায় তিনি সাধারণ মানুষের সাথে তেমন একটা মিশতেন না। আর সে ২০০৮ সালের পর যে দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে ২০১৮ সালে মহাজোটের আর ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের তিনটি নির্বাচনই ছিল ফ্যাসিস্ট পলাতক আওয়ামী সরকারের সাজানো ও পাতানো নির্বাচন। এসব ডামি নির্বাচনের পর এবারই মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, যেখানে ফ্যাসিজমকে বাদ দিয়ে প্রকৃতভাবে জনবান্ধব দল ও তাদের প্রতিনিধির প্রকৃত যোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বরিশাল-৩ আসনের মানুষ যে বিএনপিকে ভালোবাসে তার প্রমাণ দীর্ঘ ১৭ বছর পর সুযোগ পেয়ে ভোটের মাঠে দিয়ে দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনের ৩৬ জন প্রার্থীর ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জামায়াত ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ১৫ জন ছাড়া বাকি ২১ প্রার্থীই তাদের জামানত হারিয়েছেন।
বরিশাল জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান জানান, নিয়মানুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোট না পাওয়ায় এসব প্রার্থী জামানত হারাবেন।
সেই হিসেবে, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ -মুলাদী) আসনে জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের ২২ হাজার ২১৫ ভোট পেতে হবে। সেই হিসেবে এ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও এবি পার্টির দুজন প্রার্থী ছাড়া বাকী ৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। অর্থাৎ একাধিকবারের সাবেক সাংসদ জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ গণঅধিকার পরিষদ-জিওপির প্রার্থী ইয়ামিন এইচএম ফারদিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রার্থী মো. আজমুল হাসান জিহাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
তথ্য বলছে, সাবেক সংসদ জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু এবারে পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৮৪ ভোট, যেখানে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির সেলিমা রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬৬ হাজারের ওপরে ভোট পেয়েছিলেন গোলাম কিবরিয়া টিপু। তবে ২০১৪ সালে ২৩ হাজারের মতো ভোট পেয়েও ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন এই প্রার্থী। এরপরের নির্বাচনে ২০১৮ প্রায় ৫৫ হাজার ভোট এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৫৩ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছিলেন।
