নিজস্ব প্রতিবেদক:বরিশাল বেলভিউ হাসপাতাল এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় এক চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পরে দুঃখ প্রকাশ করলো বেলভিউ হাসপাতাল কৃর্তৃপক্ষ।
সংবাদ প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল প্রাইভেট ডায়াগনস্টি এন্ড ক্লিনিক এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ডা. নজরুল ইসলাম ভুক্তভোগী ডা. ইসতিয়াক আহমেদ রিফাতকে নিয়ে বেলভিউতে যান। হাসপাতালের সিইও রিয়াজ হাসানের রুমে বসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেলভিউর শেয়ারহোল্ডার ডা. জি কে চক্রবত্রী, ডা.নজরুল ইসলাম সহ বেলভিউর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বেলভিউ কর্তৃপক্ষ অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুণঃরাবৃত্তি না ঘটার প্রতিশ্রুতি দেন। বেলভিউর সংস্লিষ্ট স্টাফকে কারণ দার্শানো নোটিশ প্রদান এবং গ্রহণকৃত বিল ফেরৎ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে ডা. আশীষের বিরূদ্ধে তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণের অপারগতা প্রকাশ করেন। যদিও ডা. আশীষের পক্ষ থেকেও বেলভিউ কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেন। তাছাড়া গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানান তারা।
এদিকে এ ঘটনায় জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাসমূহে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে এসেছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। তারাও এ বিষয়ে বিধি অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্লিষ্ট সূত্র।
উল্লেখ্য, গত ১১ মে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়। এর আগে সাত দিন বরিশাল বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি ছিল। সংস্লিষ্ট কনসালটেন্ট ডা. আশীষ কুমার হালদারের নির্দেশনায় বেলভিউতে ভর্তি করানো হলেও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি চিকিৎসা দিতে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন। নবজাতকের পিতা ডা. ইসতিয়াক ফোন করে ‘পা ধরে’ অনুরোধ করার পরও তার মন গলেনি। তাছাড়া প্রেসক্রিপশনের অষ্পষ্ট এডভাইস থাকায় চিকিৎসাবিহীন থাকতে হয়েছে অনেক সময়। পর্যাপ্ত সামগ্রী না থাকলেও সেখানে এনআইসিইউ গড়ায় চিকিৎসার পরিবর্তে হয়েছে অপচিকিৎসা।
নানা বিষয়ে হাসপাতাল স্টাফদের অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারে শিকার হয়েছেন স্বজনরা। তেমন কোন বিশেষ চিকিৎসা না পেলেও প্রায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা বিল তৈরী করে বেলভিউ কর্তপক্ষ। অবশেষে নবজাতকের অবস্থা আরো গুরুতর অবস্থায় দায় সাড়তে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। এসব অভিযোগ নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে তুলে ধরেন ভুক্তভোগী বাবা বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের অর্থপেডিক বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইসতিয়াক অহমেদ রিফাত।
পোস্টের শেষে মন্তব্যে তিনি লিখেন, বেলভিউ কর্তৃপক্ষ ডাক্তার কাপলের সাথে যদি এরকমটা করতে পারে, তাহলে অন্যান্য মানুষের সাথে কি করবে?
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার। তার শশুর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিশি ভোটের একাধিকবার এমপি। স্বাচিপ এর রাজনীতির সাথে জড়িত ডা. আশীষ। এক সময় তার কলমের ধারে অনেক নীরিহ পেশাদার চিকিৎসককে হয়রানী হতে হয়েছে। বরিশাল সদররোড বেলভিউতে তিনি নিজ মালিকানায় একটি এনআইসিইউ গড়ে তুলেছেন। শুধু বিল নেওয়ার বেলায় সেটি এনআইসিইউ হলেও সেখানে আসলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী ও ব্যবস্থাপনা নেই। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন ডা. আশীষ এবং বেলভিউ কতৃপক্ষ। এর পূর্বেও একাধিক বাচ্চাকে ভুল চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে ডা. আশীষের বিরূদ্ধে।
বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতালের সিইও রিয়াজ হাসান বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে দায়ীদের শোকজ করা হয়েছে। মৃত নবজাতকের চিকিৎসা বাবদ নেওয়া বিল ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ডা. আশীষ কুমার হালদার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।”




