Take a fresh look at your lifestyle.

বরিশালে শিক্ষিকার অশোভন আচরণে নাজেহাল শিক্ষার্থী-অভিভাবক

১০

স্টাফ রিপোর্টার: বরিশাল নগরীর ৯১নং সরকারি কিশোর মজলিস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষীকা জায়েদা বেগমের বিরুদ্ধে উগ্র ও অশোভন আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর মেধাবী শিক্ষার্থী (বর্তমান শ্রেণিসহ সকল শ্রেনীতে রোল নং ০১) ফাবিয়া বুশরার বাবা, প্রকৌশলী (অবসরপ্রাপ্ত) ‎মোঃ আবু সুফিয়ান কতৃক বরিশাল ‎জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার

বরাবর দাখিলকৃত অভিযোগ সূত্রে ও সরোজমিনে গিয়ে জানা যায়, ছয়/সাত মাস পূর্বে স্কুলে এ্যাসেম্বলি শেষ হওয়ার পরে দুপুরের টিফিন ছাড়া বুশরা ক্লাসে চলে যায়। তার বাবা তাকে টিফিন দেওয়ার জন্য শিক্ষিকা জায়েদার কাছে দুই মিনিট সময় চেয়ে মেয়ের কাছে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন। ক্লাস শুরু না হলেও অনুমতি প্রদান না করে শিক্ষিকা জায়েদা তাকে যেতে বাধা প্রদান করেন। শিক্ষার্থীর অভিভাবক ১০মিনিট অপেক্ষা করে এক ফাঁকে টিফিনটি দিয়ে আসলে অভিভাবককে কটুক্তি করেন। অভিভাবক ঐ সকল কটুক্তির প্রতিবাদ করায় উক্ত শিক্ষিকা ধাক্কা দিয়ে তাকে লাইব্রেরীতে নিয়ে গিয়ে পুলিশ আনার ভয় দেখায়।

অভিভাবক লাইব্রেরিতে প্রায় এক ঘন্টা বসে থাকার পরে প্রধান শিক্ষক তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তী দিনে শিক্ষার্থী ক্লাসে গেলে উক্ত শিক্ষিকা কারনে অকারনে তাকে বকাবকি এবং ধমক দেয়। কোমলমতি শিক্ষার্থী বুশরা জানান, ম্যামের আচারণ খুবই উগ্র সে কিছুই পরোয়া করে না। গত ২৬ আগষ্ট অনুষ্ঠিত পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থী বুশরাকে তার বাবা স্কুলে নিয়ে যান। ঐ সহকারী শিক্ষীকার ছেলে এবং বুশরার আসন ছিল পাশাপাশি। ছেলেটিও মায়ের মত খুবই উগ্র স্বভাবের। ক্লাসের যাবার পর ছেলেটি বুশরার সাথে অশোভন আচরন করেন।

এতে শিক্ষার্থী বুশরা কাঁদতে কাঁদতে অভিভাবককে জানান। শিক্ষার্থীর অভিভাবক শ্রেনীকক্ষে গিয়ে শিক্ষিকার ছেলেকে অশোভন আচরন করা থেকে বিরত থাকতে বলা হলে ছেলেটি একটু ভয় পেয়ে তার মা কে ডেকে আনে। শিক্ষিকা এসে অভিভাবককে গালাগালি করে বলেন- তোরা ছোট লোক, তোদের সাথে কি ধরনের কথা বলবে? অভিভাবক তখন শিক্ষিকার গালাগালির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন- এটা কেমন আচরন, আপনি না একজন শিক্ষিকা।

এতে শিক্ষিকা ঢের ক্ষুদ্ধ হয়ে অভিভাবকে ফের লাঞ্চিত করেন। মায়ের সাথে সাথে ছেলেও অভিভাবককে লাঞ্চিত করেন। এতে অভিভাবক কিছুটা উত্তেজিত হয়ে তার মেয়েকে স্কুল থেকে পরীক্ষা না দিয়ে বাসায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন দুইজন শিক্ষিকা শিক্ষার্থীকে বাসায় নিয়ে যেতে বাধা দেন। শিক্ষার্থী বুশরা তখন খুব কান্নাকাটি করিতেছিলো এরই ফাঁকে উক্ত শিক্ষিকার ছেলে একটি স্ট্যাপ্লার মেশিন অভিভাবকের দিকে ছুড়ে মারেন। অভিভাবক সেটি ফেরানোর চেষ্টা করলে ঐ মেশিনটি ঘুরে গিয়ে ছেলেটির মাথায় লাগে এবং একটু কেটে যায়।

এত উক্ত সহকারী শিক্ষিকা ফের প্রচন্ড ক্ষীপ্ত হয়ে বেদড়কভাবে লাঞ্চিত করতে থাকেন। পরবর্তীতে কয়েকজন মহিলা তাকে শিক্ষিকার কবল থেকে উদ্ধার করেন। সরোজমিনে আরও জানা যায়, সরকারী আদেশ উপেক্ষা করে স্কুল ছুটির পর উক্ত শিক্ষীকা ৩০/৩৫ জনরে প্রাইভেট পড়ায়।

বিগত সরকারের আমলে সে সহকারী নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় ও একই স্কুলে অনেক দিন চাকুরী করায় ঢের বেপরোয়া। শিক্ষিকার ভয়ে শিক্ষার্থী বুশরা এখন স্কুলে যেতে ভয় পায়। অসমর্থিত সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষীকা জায়েদা বেগমের উগ্র ও অশোভন আচরণের জন্য পরপর দুই জন স্বামী কতৃক পরিত্যক্তা হয়েছেন। লাঞ্চিত অভিভাবক প্রকৌশলী (অবসরপ্রাপ্ত) ‎মোঃ আবু সুফিয়ান বলেন, সহকারী শিক্ষীকা জায়েদা বেগমের উগ্র ও অশোভন আচরণে আমি খুব বিমর্ষ, হতবাক।

আমি তার যথাপযুক্ত বিচার চাই। একাধিক অভিভাবক এতে সহমত পোষন করেন। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Auto House

Leave A Reply

Your email address will not be published.