বিশেষ প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন চলবে আর মাত্র তিনদিন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে উত্তাপ ছড়াচ্ছে নির্বাচনি আলাপ। বরিশালের মেঘনা, কালাবদর ও তেতুলিয়া নদীবেষ্টিত দুই উপজেলা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্গম জনপদ হিসেবে পরিচিত এ দুই উপজেলা ও প্রশাসনিক থানা কাজিরহাট নিয়েই গঠিত বরিশাল-৪ আসন।
এই আসনের মোট ভোটার ৪২১৯৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২১৭৯৪২ ও নারী ভোটার ২০৪০৩০ জন। দুর্গম জনপদের এই মানুষের মধ্যে তৈরী হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। এই আসনে ভোটের মাঠে পাঁচজন প্রার্থীর নাম থাকলেও মাঠে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির রাজীব আহসান ও জামায়াতের অধ্যাপক মাওলানা আবদুল জব্বার।
গত ৬ ফেব্রুয়ারী মেহেন্দিগঞ্জের পাতার হাট আরসি কলেজ মাঠে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বারের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসেছিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার আগমনের পরেই বদলে গেছে এই আসনের ভোটের মাঠের দৃশ্যপট। জনপ্রিয় এই নেতার বরিশালের প্রান্তিক জনপদ মেহেন্দিগঞ্জে আগমনে নড়েচড়ে বসেছেন এলাকার ভোটাররা। অবশ্য নির্বাচনী ডামাডোল বাজার অনেক আগ থেকেই এই আসনের অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বার। পাশাপাশি দলটির আমীরের আগমনের পর দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে। দলের প্রধান সফর করে যাওয়ায় এই আসনের ভোটারদের মাঝে অন্যরকম উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।
এলাকাবাসী বলছেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আমাদের এই প্রান্তিক জনপদে এসেছেন এতে আমরা গর্বিত। এই জাতীয় নেতা আশ্বাস দিয়েছেন, হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাটের মত বিচ্ছিন্ন জনপদকে ব্রীজ নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নয়নের সোপানে পরিণত করা হবে। দূর্গম এই এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনজীবনে স্বস্তি আনতে যা যা করনীয় তা করার ইচ্ছা রয়েছে তার ।
মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার মোটরসাইকেল চালক ইয়ামিন বলেন, জামায়াত আমির নিজে এসে আমাদেরকে যে আশ্বাস দিয়েছেন তাতে আমরা আশাবাদি। জীবনের প্রথম ভোট দিব এবার । এর আগে আমি কোনদিন ভোট দেইনাই। তাই এবার ইসলামের পক্ষে একটি ভোট দিয়ে ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে চাই।
মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গফ্ফার সিকদার বলেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্য আমার অনেক ভালো লেগেছে। মনে হয়েছে তিনি তার কথা রাখবেন। তাই ভাবছি জীবনে অনেক দল দেখেছি এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবো।
উলানিয়ার হাসানপুরের চাষি হাফিজ হাওলাদার বলেন, জামায়াত আমির আমাদের উন্নতির কথা বলেছেন। তাই এলাকার স্বার্থেই এবার একটি ভোট দাঁড়িপাল্লায় দিব।
আলিমাবাদের মুদি দোকানী হারিছ সরদার বলেন, বিগত দিনে আমরা অনেক সরকার দেখেছি। চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দুর্নীতি থেকে রেহাই মেলেনি। জুলাই বিপ্লবের পর থেকে জামায়াতকে কোন অপকর্মে লিপ্ত হতে দেখিনাই। তারা কোন মামলা বানিজ্য করেনাই। তাই মনে করি তারা ক্ষমতায় গেলেও এভাবেই সততার সাথে দেশ চালাবে। এজন্য আমাদের এবারের পছন্দ জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা।
শ্রীপুরে কাঠ মিস্ত্রি রাজিব বলেন, জামায়াত আমিরের আশ্বাসগুলো বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে। তাই এলাকার অনেকেই এখন বিষয়টি ভাবছে। সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চাই। অনেক দল দেখেছি তারা আমাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাই এবার আমাদের পছন্দ দাঁড়িপাল্লা।
হিজলা উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুল আমীন বলেন, জামায়াত আমিরের আগমন ও ভাষণের মধ্য দিয়ে এখানে দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ারের পালে যেন আরো হাওয়া লেগেছে। নিরব ভোটাররাও এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে। সুষ্ঠ ভোট হলে এবং সাধারণ মানুষ যদি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে তাহলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে।
