নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল কাজিরহাট থানার আন্দারমানিক ইউনিয়নের পূর্ব আন্ধার মানিক (কলকুঠি) মাদরাসার সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামালায় ৬জন জামায়াত কর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে গুরুতর আহত একনজকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে, বাকি ৫জনকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৯ ফেব্রুয়ারী সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে অবরুদ্ধ জামায়াতকর্মীদেরকে সেনা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে উদ্ধার করে।
আন্দারমানিক ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রচারণার শেষ দিনে কলকুঠি মাদরাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন আমাদের সাথে থাকা কয়েকজন দাঁড়িপাল্লা স্লোগান দেওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি কর্মী তাদেরকে বাধা দেয়। এ নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করলে পাশে বিএনপি অফিসের মধ্য থেকে লাঠিসোটা এনে আমাদের উপরে বেধরক হামলা চালায়।
হামলায় নেতৃত্ব দেয় মোফাজ্জেল দেওয়ান, মোহাম্মদ আলী, আয়নাল মাঝি, আনোয়ার হাওলাদার সহ আরো ২৫/৩০ জন। তারা আমাদের সাথে থাকা মোটরসাইকেলগুলোকে ভাঙ্গচুর করে খালে ফেলে দেয়। এরমধ্যে একটি মোটরসাইকেল তারা নিয়েই গেছে। এ সময় লাঠির আঘাতে এক জনের পা ভেঙ্গে যায়। হাসান, তরিকুল, আমিনুল, মাহমুদ সহ কয়েকজন মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। আমরা কয়েকজন পাশের চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও তারা হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আমরা সেনাবাহিনী ফোন দিলে তারা এসে আমাদেরকে উদ্ধার করেন।
ইউনিয়ন সভাপতি আরো বলেন, এর আগেও গত ২ ফেব্রুয়ারী মোহাম্মদ আলী সহ এসব সন্ত্রাসীরা আমাদের মহিলা কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছিল। সে ঘটনায় তখন আমি থানায় অভিযোগ দেই। কিন্ত পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ এই হামলার ঘটনা ঘটলো।
পূর্বের সেই দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ২ ফেব্রুয়ারী সোমবার বেলা ১১টার আজিমপুর এলাকায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিল বেশ কয়েজন মহিলা সমর্থক। তখন হঠাৎ করে সেখানে উপস্থিত হয় ধানের শীষের কর্মী স্থানীয় বেলাল দাই, নাসির মৃধা, দুলাল খান, জুলহাস সিকদার, মফিজ হাওলাদার, শহিদ বিশ্বাস, মুনছুর মিয়া, মনির দেওয়ান, আল আমিন খান, নূরুল ইসলাম, মোজাম হাওলাদার, আলাউদ্দিন আলী রানা, নাসির উজ্জ্বলসহ তাদের ১৫/২০ জন সহযোগী।
উল্লেখিত ধানের শীষের কর্মীরা দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে তারা নারী সমর্থকদের হেনস্তা ও লাঞ্চিত করে।
কাজিরহাট থানার ওসি মো. নবীউল হাসান বলেন, হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে গেছে। বেশ কয়েকজন আহত। তারা হাসপাতালে চিকিসা নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে এ ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
