স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন গন্তব্যে দ্বারপ্রান্তে চলে এসছে রাত পোহালেই চলে যাবে স্টেশনে। ট্রেন গন্তব্যে আসার সাথে সাথে উত্তাপ ছড়াচ্ছে নির্বাচনি আলাপ। বরিশালের মেঘনা, কালাবদর ও তেতুলিয়া নদীবেষ্টিত দুই উপজেলা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্গম জনপদ হিসেবে পরিচিত এ দুই উপজেলা ও প্রশাসনিক থানা কাজিরহাট নিয়েই গঠিত বরিশাল-৪ আসন।
এই আসনের মোট ভোটার ৪২১৯৭৫ জন, পুরুষ ভোটার ২১৭৯৪২ ও নারী ভোটার ২০৪০৩০ জন। দুর্গম জনপদের এই মানুষের মধ্যে তৈরী হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। এই আসনে ভোটের মাঠে পাঁচজন প্রার্থীর নাম থাকলেও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির রাজীব আহসান ও জামায়াতের মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার।
পাশাপাশি নিজেকে আলোচনায় রাখার চেষ্টা চালিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সৈয়দ এছাহাক মোঃ আবুল খাযের ।২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও তিনি মুলত মাঠে নামেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার ঠিক আগ মুহুর্তে। যার ফলে এই অল্প সময়ে ভোটারদের কাছে পৌছতে পারেনি তিনি। অপরদিকে অনেক আগ থেকেই মাঠে রয়েছেন বিএনপির রাজীব আহসান ও জামায়াতের মাওলানা আবদুল জব্বার।
আসনের অতীত ইতিহাস বিএনপির পক্ষে থাকলেও জামায়াতেরও রয়েছে শক্ত ভিত্তি। দলটির বিরাট একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে এই আসনে। এর সাথে যোগ হয়েছে জুলাই বিপ্লবের পর জামায়াতকে ঘিরে গড়ে ওঠা ক্রেজ। যে কারণে আগামী নির্বাচনে আসনটি নিজেদের করে নেয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন জামায়াত নেতাকর্মীরা।
২০০৮ সালে এখানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তবে তার পরিবর্তে প্রার্থী হিসেবে এখানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রাজিব আহসানের নাম ঘোষণা করা হওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত তার পক্ষে মাঠে নামেনি মনোনয়ন বঞ্চিত কোন নেতা। যার ফলে দুই উপজেলায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ নির্বাচনী মাঠে অনুপস্থিত।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই রাজিব আহসান মাঠ চষে বেড়ালেও দলটির অভ্যন্তরে গ্রুপিং ও নানা কোন্দল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিভক্ত অবস্থান তার নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই আসনে মুলত লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে । সাধারণ ভোটারা বলছেন, বিএনপির নবীন বনাম জামায়াতের প্রবীণ প্রার্থীর একটি জমজমাট লড়াই হবে ভোটের বাক্সে।
জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় জনভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী, যা জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ২য় হয়েছিল এবং ১৯৯৬ সালে ৩য় হলেও বিজয়ী প্রার্থীর সাথে ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই অল্প। অপরদিকে গোবিন্দপুর ইউনিয়নে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মরহুম মাওলানা আবুল হাসেম ৫ বার ও বড়জালিয়া ইউনিয়ন এবং অবিভক্ত উলানিয়া ইউনিয়নে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা অতীতে বারবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ।
জামায়াতের সূত্র মতে, বরিশাল বিভাগের মধ্যে এই আসনে তাদের সাংগঠনিক ভীত তুলনামূলক মজবুত। এখানকার প্রার্থী বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির হওয়ায় তাকে শক্ত প্রার্থী হিসেবেই দেখছেন ভোটাররা। ইতিমধ্যে তিনি প্রান্তিক জনপদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষকদের সমস্যা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকাবাসী বলছেন, বহুবছর ধরেই প্রার্থী আব্দুল জব্বার নিবিড়ভাবে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের সবার মতামত গ্রহণ করছেন। তিনি এই অঞ্চলে ছাত্রজীবন থেকে সাংগঠনিক দায়িত্বপালনের সুবাদে এলাকাবাসীর সাথে তার একটি নিবিড় বন্ধন গড়ে তুলেছেন।
অপরদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করেছেন। কে হাসবে শেষ হাসি এ নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচনী ফলাফলের জন্য।