নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা প্রদানের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
১১ এপ্রিল,শনিবার সকাল ১১ টায় নগরির অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন অবসরপ্রাপ্ত এমপিও ভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি কল্যাণ সমিতি বরিশাল জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দরা ।
মানববন্ধন শেষে নগরির সিটি কলেজ প্রাঙ্গনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অবসরপ্রাপ্ত এমপিও ভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি কল্যাণ সমিতি, বরিশালের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব) সুভাষ চন্দ্র পাল বলেন, আমরা বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীরা ৯৫ ভাগ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করেও সরকারি শিক্ষক কর্মচারির তুলনায় অনেক বেশি বৈষম্যের শিকার। শুধু আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নয়, সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রেও আমরা অনেক বেশি উপেক্ষিত। এ ধরনের বঞ্চনা ও উপেক্ষা সহ্য করে আমাদেরকে কর্মজীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে। অবসরকালীন সময়ে আমাদের বেতন ভাতা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আমরা সীমাহীন দুরবস্থার মধ্যে পড়ি। অবসর গ্রহণের ৪-৫ বছর পরেও অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা না পেয়ে অসংখ্য শিক্ষক কর্মচারি প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণের মতো অমানবিক পরিণতি বরণ করেন।
অবসরপ্রাপ্ত এমপিও ভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি কল্যাণ সমিতি, বরিশালের সম্পাদক উপাধ্যক্ষ (অব) আনোয়ারুল হক বলেন, বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারিদের অবসরকালীন এমন দুর্দশা থেকে মুক্তি লাভের প্রত্যাশায় আমাদের একজন হিতাকাঙ্খী বিপ্লব কান্তি দাস গত ২০১৯ সালে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট(পিটিশন দাখিল করেন। মহামান্য হাইকোর্ট ২০২৪ সালেল ২২ ফেব্রুয়ারির দেয়া রায়ে বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারিদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা পূর্বের ৬% কর্তনের স্থলে আরো ৪% বেশি কর্তন করায় মোট ১০% হওয়ায় বর্ধিত হারে অবসরভাতা ও কল্যাণ ভাতা অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে প্রদানের নির্দেশ দেন। আমরা দ্রুত হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছি।
যার ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছি। গত ৭ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রীর নিকট সরাসরি আমাদের দাবির স্বপক্ষে আবেদন দেয়ার প্রস্তাব করলে তিনি এ বিষয়ের পরে আমাদের কথা শুনবেন বলে ওয়াদা দিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা প্রদান সহ উল্লেখিত পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষদের নেতা গোলাম মাহাবুব, অধ্যক্ষ শেখ মো. শাহাবুদ্দীন, হারুন অর রশীদ, আমিনুর রহমান খোকন, জলিলুর রহমান, এ.বি.এম মুসা, এস এম মিজানুর রহমান, তুষার সেন, মো. ফজলুর রহমান, সুভাষ পাল, অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান সেলিম, মো. আনোয়ারুল হক, ফারুক বিন ওয়াহীদ, আবুল কাশেম, আনিসুর রহমান, মো. শাহে আলম, আ. কাদের মাল, আমিনুর রহমান খোকন, হারুন অর রশিদ, আনিসুর রহমান, কর্মচারীদের নেতা রফিকুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।