নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনী আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে প্রার্থী ও প্রতীকের ছবিসহ রঙিন বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে এখনো ছেয়ে আছে বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা-কাজিরহাট) নির্বাচনী এলাকা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এসব সাটানো থাকলেও সংস্লিষ্ট কর্তপক্ষকে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছেনা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পাতারহাট লঞ্চঘাট, পুরতান লঞ্চঘাট, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়সহ পাতার হাট বন্দরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কালীগঞ্জ উপজেলা, চানপুর ইউনিয়নের প্রবেশ মুখে, মাস্টার হাট পানবাড়িয়া রাস্তার মাথায়, উলানিয়া লঞ্চঘাট, উলানিয়া মটর সাইকেল স্ট্যান্ডসহ শ্রীপুর, আলিমাবাদ, জাঙ্গালিয়া, চরগোপালপুর, চর একরিয়া ও দড়িরচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব বিলবোর্ড ও পোস্টার ঝুলছে। এসবের অধিকাংশই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসানের ধানের শীষের। তাছাড়া কাজিরহাট থানার বনিকের হাট, দফাদার হাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ড ঝুলছে।
অপরদিকে হিজলা উপজেলায় প্রশাসনের নাকের টগা উপজেলা বাস স্ট্যান্ড, খুন্না বাজার, কাউরিয়া বাজার, ধনু সিকদার বন্দর, টেকের বাজার, একতা বাজার সহ বিভিন্ন হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ড ঝুলছে।
এছাড়াও মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা-কাজিরহাটের বিভিন্ন বিভিন্ন হাট-বাজার, খেয়া ও লঞ্চ ঘাট, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একসাথে ১০ থেকে ১৫টি করে ধানের শীষ প্রতিকের সাটানো রঙ্গিন পোস্টার এখনো দৃশ্যমান রয়েছে।
অথচ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী—নির্বাচনী প্রচারণায় কাগজের পোস্টার দেয়ালে সাঁটানো বা ঝোলানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবারের বিধিমালায় একমাত্র ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যমে রঙিন প্রচারণার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিলবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আকার ও সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হলেও সেখানে রঙিন বিলবোর্ড (Colorful Billboard) ব্যবহারের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অনুমোদন নেই। এ অবস্থায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন চলতে থাকলে সামনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মেহিন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজুর রহমান বলেন, এটি থাকার কোন সুযোগ নেই। আমি এখনই ম্যাজিস্ট্রেটকে বলে দিচ্ছি। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।