বিশেষ প্রতিবেদকঃ টানা বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বারখ্যাত ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী অংশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও কোথাও উঠে গেছে পিচ-পাথর, আবার কোথাও সড়কের ওপর টিউমারের মতো উঁচু অংশ তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে টরকী বাসস্ট্যান্ড, মদিনা স্ট্যান্ড, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, আশোকাঠী, কাসেমাবাদ, মাহিলাড়া, বাটাজোর ও বামরাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
এসব স্থানে সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক চালককে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে, ফলে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জনজীবনের পাশাপাশি ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কও কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমন কোনো অংশ নেই যেখানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়নি। মহাসড়কের যেসব অংশ সম্প্রসারণ করা হয়েছে, সেগুলো মূল সড়কের সঙ্গে সমতল না হওয়ায় যানবাহন চলাচলে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ কেটে রেখে দেওয়ায় সরু পথ দিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংস্কারের অভাব ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মহাসড়কের গৌরনদী অংশের এ বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। চালকদের বেপরোয়া গতি ও প্রতিযোগিতামূলক চালনার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
এদিকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ভারী যানবাহনের চাপে ইট দ্রুত গুঁড়ো হয়ে ধুলায় পরিণত হচ্ছে। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনের চালকদের পাশাপাশি পথচারীরাও মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ছেন।
একাধিক পরিবহন চালক জানান, গৌরনদী অংশের কোথাও গভীর খানাখন্দ, আবার কোথাও ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু সড়ক রয়েছে। ফলে মালবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চাকা গর্তে পড়ে ইঞ্জিন, সাসপেনশন এবং টায়ার-টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত মহাসড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানান।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সম্প্রসারিত অংশ ও মূল সড়কের উচ্চতার পার্থক্যের কারণে যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। অনেক থ্রি-হুইলার সম্প্রসারিত অংশ ব্যবহার না করে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। সড়কটি পুরোপুরি সংস্কার এবং চালকদের সচেতন করা গেলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।”
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান বলেন, “ভারী বর্ষণের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নিয়মিত মেরামতের কাজ করছি। তবে বৃষ্টির কারণে সেই মেরামত টেকসই হচ্ছে না।”

