বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমার্কিন নিষেধাজ্ঞা আটকে দিল চীন, জ্বালানি আমদানিতে অনড় অবস্থান

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আটকে দিল চীন, জ্বালানি আমদানিতে অনড় অবস্থান

ইরান থেকে তেল আমদানির অভিযোগ চীনের পাঁচটি বেসরকারি তেল শোধনাগারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ অ্যাখ্যা দিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষায় পাল্টা আইনি আদেশ জারি করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 

রবিবার (৩ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে মার্কিন অর্থ দপ্তর চীনের পাঁচটি তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনে ইরানি সামরিক বাহিনীকে কয়েক শ’ কোটি ডলারের রাজস্ব জোগাতে সহায়তা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যায় এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করা যে কাউকে শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

শনিবার (২ মে) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা একটি ‘প্রতিরোধমূলক আদেশ’ জারি করেছে। এই আদেশ অনুযায়ী, মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা চীনে স্বীকৃত হবে না এবং কোনো প্রতিষ্ঠান এটি মেনে চলতে বাধ্য নয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, মার্কিন এই একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং বিশ্ব রাজনীতির মৌলিক রীতির পরিপন্থি। বেইজিং-এর মতে, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা সার্বভৌম দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।

চীনের এই আদেশের ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে সুরক্ষা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারি, শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুকিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংক্সিং কেমিক্যাল।

 

আল-জাজিরার প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চীন তাদের প্রয়োজনীয় তেলের অর্ধেকেরও বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করে, যার একটি বড় অংশ আসে ইরান থেকে। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর মতে, ২০২৫ সালে ইরান যত তেল রপ্তানি করেছে তার ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে চীন।

চীনের এই তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং এগুলো সিনোপেক-এর মতো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশাল তেল কোম্পানিগুলোর তুলনায় সাধারণত আকারে ছোট। বড় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এই ছোট শোধনাগারগুলোই ইরান, রাশিয়া এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশ থেকে ছাড়ে তেল সংগ্রহ করে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।

 

চীনের মোট শোধনাগার সক্ষমতার এক-চতুর্থাংশই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলে। এসব প্রতিষ্ঠান খুব সামান্য লাভে কাজ করে এবং সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় এগুলো বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই শোধনাগারগুলো অতিরিক্ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, বিশেষ করে তাদের উৎপাদিত পরিশোধিত পণ্যগুলো সঠিক উৎপত্তিস্থল বা অরিজিনাল মার্কিং ব্যবহার করে বিক্রি করার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments