Take a fresh look at your lifestyle.

নাশকতার অভিযোগে র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার বরিশাল মহানগর ছাত্রদল সভাপতি রনি

২৭

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পরবর্তী সময়ে  ঢাকা-বরিশাল রুটের বিলাসবহুল  যাত্রীবাহি লঞ্চগুলোতে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনিকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-০৮।

এসময় রনির ০১ সহযোগী সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ছাত্রদল নেতা আহাদ হোসেন আবির (২৭) কে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

১৫ নভেম্বর,বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এই তথ্য জানান।

মঈন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃতরা তাদের দলীয় শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশনায় রনির পরিকল্পনা অনুযায়ী তার নেতৃত্বে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও নাশকতা চালায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি রনির একটি কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। যার সূত্র ধরে গ্রেফতারের পর রনি জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর লঞ্চগুলোতে নাশকতা করে বড় ধরণের আলোড়ন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য ছিলো। আর এই সকল ঘটনার সাথে দলের শীর্ষ পর্যায়ের যারাই জড়িত রয়েছে বলে প্রমাণিত হবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এই বিষয়ে র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কাজ করছে।

গ্রেফতারকৃত আবির রনির সহযোগী। সে রনির নির্দেশে বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও মহাসড়কে গণপরিবহণ, ব্যক্তিগত যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে রাস্তা অবরোধসহ চোরাগুপ্তা হামলায় অংশগ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে একটি মহল হামলা ও নাশকতার মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করে জনমনে আতংক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই ঘটনার পর র‌্যাব গোয়েন্দা নজরধারী বৃদ্ধি করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রনি ও আবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

খন্দকার মঈন আরোও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি জানিয়েছে সে একটি রাজনৈতিক দলের বরিশালের শীর্ষ পদে রয়েছে। তার দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় এবং পরবর্তী সময়ে বরিশালের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন দেওয়াসহ নাশকতামূলক কর্মকান্ড- পরিচালনা পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি তার লোকজন দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ বা নাশকতামূলক কর্মকান্ড- পরিচালনা করে তার ভিডিও সংগ্রহ করে দেশে ও দেশের বাইরে দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠিয়েছে।

মঈন আরও বলেন, তার ব্যবহৃত মোবাইল চেক করে কানাডা ইউকে সহ দেশের বাইরের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের মোবাইল নাম্বারসহ বিরোধী (নিজ) দলের শীর্ষ নেতাদের নাম্বার সেভ পাওয়া গিয়েছে। সেই নম্বরে যানবাহনে আগুন দেওয়াসহ নাশকতামূলক কর্মকান্ডের ভিডিও পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সে ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।

এর পেছনে সে তিনটি কারণ জানিয়েছে, যারমধ্যে একটি হলো সে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছ তার দৃঢ় অবস্থান। অর্থাৎ মাঠে থেকে নাশকতা ও সহিংসতামূলক কর্মকান্ড চালাচ্ছেন, শীর্ষ নেতাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন সেগুলো নিশ্চিত করা। এছাড়া আরেকটি কারণ হলো, সাধারণ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেশে যে অরাজকতা চলছে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করতেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.