নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে ভয়াবহ নদীভাঙনে গত তিন-চার দিনে অর্ধশতাধিক বসতঘর ও দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের জনবসতি এখন হুমকির মুখে।
বুধবার ভাঙনকবলিত চরগোপালপুর ও আলিমাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরগোপালপুর ইউনিয়নে সৈয়দ মাস্টার বাড়ির পাঁচটি, নীলগাজি বাড়ির আটটি, রাড়ি বাড়ির সাতটি, তালুকদার বাড়ির চারটি, বেপারী বাড়ির তিনটি, ধোপাবাড়ির পানির বরজসহ দুটি, মাধবপুর বাড়ির চারটি এবং গণি রাড়ি বাড়ির আটটি বাড়ি বিলীন হয়েছে। একই সময়ে ঢোলের হাট বাজারের প্রায় ১৫ থেকে ৩০টি দোকানও নদীতে চলে গেছে। জিও ব্যাগ ফেলার পরও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।
ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার। পরে চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
জনপ্রতিনিধিরা জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে এলাকায় প্রায় এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারেনি। এখন পর্যন্ত কোনো ব্লকও স্থাপন করা হয়নি।
খলিল আহমেদ বলেন, ভাঙন চলাকালে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর মূল্যবান সম্পদ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। এ কাজে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নদীর পানি ও স্রোত কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে, বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
চরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোরও আহ্বান জানান বিভাগীয় কমিশনার। তিনি পতিত জমিতে স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে তরমুজসহ উপযোগী ফসল চাষের পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, জমি লিজ না দিয়ে স্থানীয়রা নিজেরা চাষ করলে আয় ও স্বাবলম্বিতা বাড়বে। নদীভাঙনসহ স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

