বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটা থানার বিতর্কিত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে ক্লোজড করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে দায়ের করা একটি মামলার নারী বাদীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগে ওসি এনামুল হক সমালোচনার মুখে পড়েন। এ সংক্রান্ত অডিও ও অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনার পর বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওসিকে ক্লোজড করেন এবং ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরীকে।
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “কোনো পুলিশ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে অনিয়ম বা অপকর্ম করলে তার দায় বাংলাদেশ পুলিশ নেবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে এর দায়ভার ও শাস্তি বহন করতে হবে।”
ঘটনার সূত্রপাত হয় বরগুনার এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে।
মামলার বাদী ফাতিমা জোমাদ্দার অর্পা অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে বিলম্ব করা হয় এবং থানায় গেলে ওসি তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন।
এদিকে গত ১৮ জুন অর্পা থানায় যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে মামলার প্রধান আসামি বাদশা আকনের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, হামলার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে বাদীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও মামলার সামগ্রিক বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

