বুধবার, মে ৬, ২০২৬
Google search engine
Homeজাতীয়বরিশালে পুনরায় পানি শোধনাগার চালু, সংকট নিরসনে স্বস্তির আশা

বরিশালে পুনরায় পানি শোধনাগার চালু, সংকট নিরসনে স্বস্তির আশা

বরিশাল নগরীর দীর্ঘদিনের পানি সংকট কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ হিসেবে পুনরায় চালু করা হয়েছে রুপাতলী ১৬ এমএলডি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট।

 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে প্ল্যান্টটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

 

 

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রুপাতলী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অবকাঠামো। প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এ প্ল্যান্টের। নদী ও খাল থেকে সংগৃহীত কাঁচা পানি আধুনিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ সুপেয় পানিতে রূপান্তর করা হয়।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্ল্যান্টে কয়েকটি ধাপে পানি শোধন করা হয়। প্রথমে কাঁচা পানি সংগ্রহের পর কোয়াগুলেশন ও ফ্লকুলেশন প্রক্রিয়ায় ময়লা পৃথক করা হয়। এরপর স্থিতিকরণ, ফিল্টারিং এবং জীবাণুনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে পানি সরবরাহের উপযোগী করা হয়। সাম্প্রতিক আধুনিকায়নের ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরো কার্যকর হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটি, পুরনো অবকাঠামো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্ল্যান্টটির কার্যক্রম আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এর ফলে নগরবাসীকে বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়তে হয় এবং অনেক এলাকায় বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

 

সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্ল্যান্টটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, পাইপলাইন সংস্কার, ফিল্টার ইউনিট উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রুপাতলী ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পুনরায় চালুর মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় অগ্রগতি হয়েছে।”

 

তিনি আরো জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্ল্যান্টটির কার্যকারিতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরো স্থিতিশীল হবে। একই সঙ্গে নতুন পানি শোধনাগার স্থাপন, পাইপলাইন সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময়ে এই প্ল্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে এটি বরিশালের পানি সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর সমাধান হয়ে উঠতে পারে।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির, পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments