বরিশাল প্রতিনিধি: মেঘনা নদীতে নৌ-পুলিশ ও জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আকতার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের বিভিন্ন স্থানে গোপনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কারা গুলি ছুড়েছে,তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই রাতে অভিযানের কথা অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে বরিশালের হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছঘাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিহত আকতার হোসেন হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর মেমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুলতান হাওলাদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তাঁর মরদেহ হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা ছিল।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতে মাছ ধরতে নদীতে যান আকতার হোসেনসহ কয়েকজন জেলে। শেষরাতের দিকে শাওড়া অরাকুল মাছঘাট-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনাকারী একটি দলের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে আকতারের বুকে গুলি লাগে এবং আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছিলেন। এ সময় জেলেদের সঙ্গে অভিযানে থাকা দলের সংঘর্ষ হয়। আত্মরক্ষার্থে ছোড়া গুলি আকতারের বুকে লাগে। পরে তাঁকে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। আহত অন্য জেলেরা ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান বলেও ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।
নিহতের বোন সাথী আক্তার স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানান, বুধবার রাতে তাঁর ভাইসহ অন্য জেলেরা মাছ শিকারে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে মেঘনার শাওড়া অরাকুল মাছঘাট-সংলগ্ন এলাকায় কোস্টগার্ড ও চাঁদপুর নৌ-পুলিশের অতর্কিত গুলিতে তাঁর ভাই গুরুতর আহত হন বলে আহত জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আকতারের মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই জানিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের গণমাধ্যমের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মেঘনায় কোস্টগার্ডের কোনো অভিযান ছিল না। বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাও তাঁদের কোনো অভিযান না থাকার কথা জানিয়েছেন।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেএম মাহফুজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে জেলে নিহত হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। বুধবার রাতে তাঁদের কোনো অভিযানকারী দল মেঘনায় যায়নি। স্পিডবোট দুই দিন ধরে বিকল থাকায় গত দুই দিন ছোট ট্রলার নিয়ে সীমিত পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্য কোনো জেলার অভিযানকারী দল সেখানে অভিযান চালিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন জেলে তাঁকে মেঘনা নদীতে এক জেলেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই জেলেকে উদ্ধার করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে কে বা কারা গুলি করেছে, তা এখনো জানা যায়নি।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

