নিজস্ব প্রতিবেদক: জেলা প্রশাসনের নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও আবেদন সরাসরি গ্রহণ করে তা নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে প্রাপ্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অসহায় ও দরিদ্র ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আবেদন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
গণশুনানিতে আসা আবেদনকারী মো. আসাদুজ্জামান খাজা গত ২৮ জুলাই চৌমাথা বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। এতে তাঁর ডান পা পিষ্ট হয়ে যায়। পরে চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁর পা কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অসহায় পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, স্বামীহারা হাওয়া আক্তার এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে জীবনযাপন করছেন। তাঁর মেয়ে ফাতিমা তুজ জহুরা চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যাতে অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের কষ্ট লাঘবে সহায়তা করাও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব। বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ন্যূনতম জীবনযাপনের প্রয়োজন যখন আর্থিক সংকটে বাধাগ্রস্ত হয়, তখন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কথা সরাসরি শোনার এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অসহায় মানুষের আস্থা অর্জন এবং তাদের জীবনে সামান্য হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

