অনলাইন ডেস্ক: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ কমিটি গঠন করা হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। তিনি একই সঙ্গে সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।
মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, লিফটে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। পাশাপাশি আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ, ঘটনায় কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না এবং থাকলে তা চিহ্নিত করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় সুপারিশও দেওয়া হবে। এ ছাড়া তদন্তে অন্য কোনো বিষয় উঠে এলে সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে অগ্নিকাণ্ডের পর চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুজনের পরিবার জানিয়েছেন, তারা পদদলিত হয়ে মারা গেছেন।
নিহতরা হলেন, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের শাহজাহান (৪০) এবং তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের কুলসুমা (৩৫)। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়া উপজেলার জাহানারা (৫০) নামে একজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে অগ্নিকাণ্ডের পর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার জানান, ওই তথ্য সঠিক নয়।
প্রশাসনের যাচাইয়ে মৃতদের তালিকায় থাকা একজনকে জীবিত পাওয়া যায়। তালিকায় থাকা আরও দুজন স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন বলে তাদের পরিবার নিশ্চিত করেছে। তারা হাসপাতালে আনার সময়ই মারা যান। অন্যদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
বিভাগীয় কমিশনার জানান, হুড়োহুড়ি ও আতঙ্কের কারণে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে পদদলিত হয়ে কেউ মারা যাননি। ফায়ার সার্ভিসও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিট থেকে ৬টা ২০ মিনিটের মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের বহির্বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে আগুন নেভানোর কাজে চারটি ইউনিট অংশ নেয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। নিচে নামার সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, লিফটে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি হয়ে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

