নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় গর্ভপাত হয়ে গেছে মাহিনুর বেগমের। তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বর্তমানে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। একই হামলায় আহত মাহিনুরের ছোটভাই শাহরিয়ার আহমেদ মির্জাগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে যার নং ০৮, ১১/৬/২৬ইং।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন নিজের মায়ের সাথে পারিবারিক খুটিনাটি বিষয় নিয়ে কাথা কাটাকাটি হয় মাহিনুর ও শাহরিয়ারের। এরপর তার মা রাগ করে পাশেই বাপের বাড়ি গিয়ে নালিশ দেয়। সাথে সাথে লাঠিসোটা ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করতে চলে আসে বেলায়েত মৃধার পুত্র সোহাগ মৃধা (৩৫),আনোয়ার সিকদারের পুত্র সাদ্দাম সিকদার (৩৫), ছন্দু হাওলাদারের পুত্র সানোয়ার (৩৪) সহ আরো বেশ কয়েকজন। তাদের সকলের বাড়ি মির্জাগঞ্জের আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। তারা ঘটনাস্থলে এসে কোন কথা ছাড়াই ঘরে ঢুকে অতর্কিত হামলা করে। পিটুনি ও দায়ের কোপে শাহরিয়ার মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মাহিনুর এগিয়ে গেলে তাকেও সাপের মত পেটানো হয়। ডাক চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এরপর চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা মাহিনুর বেগমের ব্লিডিং শুরু হয়।
স্থানীয় হাসপতালে গেলে অবস্থা বেগতিক হওয়ায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দেয়। হামলার একদিন পর আহত শাহরিয়ারের স্ত্রী সারমিন সুলতানা বাদি হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রধান অভিযুক্ত সোহাগ মৃধা এছাড়াও পর্ণগ্রাফি মামলা মাদক মামলা সহ বেশ কয়েকটি মামলার সাথে জড়িত।
এদিকে মামলার পর কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও কোন আসামীকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। উল্টো আসামীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মামলা ওঠানোর জন্য হুমকি ধামকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে আবারও হামালা করা হবে বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মাহিনুর বেগম বলেন, আমি প্রবাসে কাটিয়েছি দীর্ঘ বছর। জীবনের বড় সময়টাই বাবা মায়ের জন্য বিদেশে থেকে আয় করেছি। কয়েকমাস আগে দেশে এসেছি। গর্ভধারনের মাধ্যমে প্রথম মা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমার নানা বাড়ির লোকদের অতর্কিত হামলায় আমার গর্ভপাত হয়েছে। আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুড়মার হয়ে গেছে। আমি এর কঠোর বিচার চাই।
প্রধান অভিযুক্ত সোহাগ মৃধা বলেন, আমরা শুনেছি ওরা দুই ভাইবোন মিলে ওর মাকে মারধর করেছে। তাই আমরা জিজ্ঞেস করতে গিয়ে রুবেলকে চর থাপ্পর দিয়েছি। এরপর যাওয়ার পথে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা করলে রুবেলকে হালকা পিটুনি দেই। তবে মাহিনুরকে মারধরের কথা অস্বীকার করে সোহাগ।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত খান নুরুল ইসলাম বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করছি অতি দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।

