Google search engine
Homeঅর্থনীতিবাকেরগঞ্জে প্রাইমারী প্রধান শিক্ষকের বিরূদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

বাকেরগঞ্জে প্রাইমারী প্রধান শিক্ষকের বিরূদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ঘাগুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ থেকে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া ভর্তি দেখিযে পকেট কমিটি গঠন সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুলের কয়েকজন জমি দাতা এবং কয়েকজন অভিভাবক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ শিক্ষা অফিসার বরাবরে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় চরাদী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর পক্ষে প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা মোঃ হোসেন আলী, দাতা মোঃ সুলতান হোসেন আকন্দ, সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান এবং দাতা মোঃ আমীর আলী হাওলাদার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির বিচার চেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান নেই বলেই চলে। ২০২০ সালের পর থেকে কোন অভিভাবক সভা হয়নি। পে স্লিপের অর্থ সভাপতির স্বামীর সাথে ভাগাভাগি করেছেন প্রধান শিক্ষক। যার প্রমাণ ব্যাংক স্টেমেন্ট পরখ করলে পাওয়া যাবে। এছাড়াও নীতিবহি:র্ভূতভাবে সোহেল এবং কামরুল বরিশালে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও তাদের সন্তান এই বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখানো হয় এবং জাতীয় পার্টির নাম করে তাদেরকে কমিটির সদস্য বানানো হয়। একইভাবে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনে ২ বার কমিটি গঠন করে জাতি গঠনের প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দাড়প্রান্তে নিয়ে গেছে। স্থানীয় অভিভাবক যার কারণে সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করছে ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে।

২০১৯ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম সরকারের কোন বরাদ্দ স্কুলের কাজে ব্যয় করেন নাই। চিলি কোঠার বরাদ্দ ২ লক্ষ টাকা মাত্র ১২/১৫ খানা ইট গেথে লুটপাট করেন। কমিটি গঠনের নানা অপকৌশল অবলম্বন করেন। অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ পত্র সংগ্রহে রেখে নিজের সুবিধামত অভিভাবকদের কমিটির সদস্য রাখেন। যে সকল অভিভাবক শিক্ষিত ও সৃজনশীল তাদেরকে দূরে রাখেন। তার অপছন্দনীয় ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবকদের ভোটার তালিকা পর্যন্ত বোর্ডে প্রদর্শন করেন না। পছন্দনীয় অভিভাবকদের নামমাত্র তালিকা দেয়ালে প্রদর্শন করেন। উল্লেখ্য, স্কুলবিহীন গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালে সরকারী অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালে ৫১ জন ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু হয়। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৮৪ থেকে ৯০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত অধ্যয়নরত ছিল।

প্রধান শিক্ষক হিসেবে মোঃ শহিদুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে তার একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনে রানীরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সাফিন আনাসকে অত্র বিদ্যালয়ে ভুয়া ভর্তি দেখিয়ে তার মা নুসরাতকে ১ লাখ টাকার বিনিময় বিদ্যালয়ের সভাপতি দেখানো হয় বিধি লংঘন করে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, অভিযোগ গুলো ভিত্তিহীন। আমি কোন অনিয়ম করিনি। আর চিলেকোঠা নির্মাণে কিছু টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু কোন টাকা ভাগবাটোয়ারা করিনি। এছাড়া অন্যান্য অনিয়মের কথাও একবাক্যে অস্বীকার করেন শহিদুল ইসলাম তালুকদার।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমীন বলেন, এখন পর্যন্ত আমার হাতে অভিযোগটি পৌছেনি। অভিযোগ হাতে পেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই স্বাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments