গৌরনদী প্রতিনিধি: আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকায় একের পর এক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। গত দুই বছরে অন্তত ৪০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।
এর মধ্যে গত এক মাসেই নতুন করে পাঁচটি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক বছর ধরে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনের শিকার হয়ে অনেকে অন্যের জমিতে ঘর তুলে বসবাস শুরু করলেও সেসব জায়গাও এখন নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা পলিথিনের ছাউনিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, ‘আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে এর আগে দুইবার বসতভিটা হারিয়েছি। পরে অন্যের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছিলাম। কয়েক দিন আগে সেই জমিটিও নদী গ্রাস করেছে। এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করছি।’
এদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লারখাল এবং গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুড়া খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজটিও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না হলে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, গৌরনদী-ধামুড়া খালে তীব্র স্রোতের কারণে বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার বড় অংশ ধসে গেছে। এখন একমাত্র ব্রিজটিও ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
মিয়ারচরের প্রবীণ বাসিন্দা অলিল বেপারী (৭৫) বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা ও জমি হারিয়েছে। বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় কয়েক বছর ধরে ভাঙন চলছে। বিভিন্ন সময় সরকারিভাবে ভাঙন রোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। একই অভিযোগ বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লারখাল এলাকার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদেরও। ভাঙনের কবল থেকে বসতভিটা ও সড়ক রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, মিয়ারচর এলাকায় নদীভাঙন রোধে ১০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু হবে। দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকাতেও একটি কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা অপর অংশ পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

