নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে একদল ঠিকাদার সেখানে গিয়ে কর্মসূচিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকরা। একপর্যায়ে মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নেওয়া এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
মানববন্ধনে জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাইদুল ইসলাম সাকিব অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ৯ নম্বর সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। সম্প্রতি নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের একটি মিছিলেও তিনি অর্থায়ন করেছেন বলে অভিযোগ করেন সাকিব। তাঁর দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী অধিকাংশ ঠিকাদারি কাজ নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারকে পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে কমিশন নেওয়া এবং নিজস্ব বলয়ের ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী অনিয়ম করছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৌশলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত যুবদলের সাবেক নির্বাহী সদস্য মোমেন সিকদার, ছাত্রদল নেতা সানমুন, প্রকৌশলীর গাড়িচালক ইব্রাহিম ও অফিস সহকারী তন্ময় মানববন্ধনস্থলে গিয়ে ব্যানার কেড়ে নেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে মানববন্ধন চলাকালে মোমেন সিকদারকে কর্মসূচির বিষয়ে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘এই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করবেন, চাঁদাবাজি করবেন, সেটা হবে না।’ পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
তবে মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার ও যুবদল নেতা মোমেন সিকদার। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যাওয়ার সময় ব্যানার নিয়ে কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি সেখানে যান। ব্যানারে নির্বাহী প্রকৌশলীর ছবি দেখে তিনি শুধু কর্মসূচির কারণ জানতে চেয়েছেন। মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে টেক্সট মেসেজে পরিচয় জানতে চান। পরে পরিচয় জানানো হলেও তিনি আর ফোনে সাড়া দেননি। এর আগে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর কার্যালয়ের সামনে কারা মানববন্ধন করেছেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

