নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় জাল দলিল ব্যবহার করে নামজারি (মিউটেশন) করার চেষ্টার অভিযোগে বিএনপির এক নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের হাদীবাঁশকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মো. নাঈম (৩৫), নূর ইসলাম মোল্লা (৫৭), আব্দুর রহিম (৫৫) ও তোফাজ্জেল হোসেন টিয়া (৬০)। তাদের মধ্যে আব্দুর রহিম মাধবপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন নাঈম, নূর ইসলাম মোল্লা ও আব্দুর রহিম। অপর আসামি তোফাজ্জেল হোসেন টিয়া পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্তরা একটি দলিলের ভিত্তিতে বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার কার্যালয়ে নামজারির আবেদন করেন। আবেদনটি যাচাইয়ের সময় দলিলটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে দলিলটি জাল বলে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাবুগঞ্জ থানাকে জানানো হয়।
পরে মাধবপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালি ও তদবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নামজারি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, ভূমি-সংক্রান্ত সেবায় জালিয়াতি, ভুয়া দলিল কিংবা প্রতারণার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, জাল দলিল ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে নামজারির চেষ্টার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

