Google search engine
Homeঅন্যানোবিএম কলেজ ছাত্রী ঝুমুরের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

বিএম কলেজ ছাত্রী ঝুমুরের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বরিশাল সরকারি বজ্রমোহন (বিএম) কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতুর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবারের সদস্য, স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের কারণে ঝুমুর বিষপানে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

বুধবার সকালে ঢাকাস্থ অরাজনৈতিক সংগঠন ‘প্রজন্ম আগৈলঝাড়া’র উদ্যোগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার মানববন্ধন শেষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা ঝুমুরের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে ঝুমুর খানম সেতু বিএম কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে পরিবারের সম্মতিতে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী মহল্লার মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই কুয়েতপ্রবাসী স্বামী শাহারিয়া এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন কারণে ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করতেন। বিয়েতে পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, বরযাত্রী কম হওয়া এবং ঝুমুর দেখতে সুন্দরী নন—এমন নানা অজুহাতে তাকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। একপর্যায়ে ঝুমুরকে তার মেয়েসহ স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।

নিহতের বাবা আব্দুল করিম খানের বরাত দিয়ে বক্তারা বলেন, গত ৪ অক্টোবর রাতে ভিডিও কলের মাধ্যমে ঝুমুরকে গালিগালাজ করেন তার স্বামী শাহারিয়া। একপর্যায়ে তাকে বিষপান করে মারা যেতে বলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরিবারের অগোচরে ঝুমুর বিষপান করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে ৫ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে ঝুমুরের মৃত্যু হয়।

পরে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জানাজা শেষে আগৈলঝাড়ায় বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে ঝুমুরকে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments