বিশেষ প্রতিবেদকঃ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সরিফুল কামালের বিরুদ্ধে আয়-ব্যয়ে অনিয়ম, হিসাব বহির্ভূত লেনদেন এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিট প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে পাঁচ সদস্যের অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি প্রতিবেদনটি তৈরি করে। প্রতিবেদনের একটি কপি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজের সাধারণ ব্যাংক হিসাবের বাইরে সর্বমোট ৯৬ লাখ ৮৯ হাজার ৪১৫ টাকা এবং ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪৬২ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বিল নেওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিধিবহির্ভূতভাবে কলেজের ৩ লাখ ২২ হাজার ৪৪১ টাকা অধ্যক্ষ নিজের কাছে জমা রেখেছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার ব্যয়ের সঠিক হিসাব দিতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে অধ্যক্ষের কাছে কলেজের সাধারণ তহবিলের ৭০ লাখ ৪৭ হাজার ২৪০ টাকা ১২ পয়সা ফেরতযোগ্য বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অডিট কমিটির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় দেড় বছর আগে রেজুলেশনের মাধ্যমে পাঁচ সদস্যের অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই অধ্যক্ষ অডিট কাজে অসহযোগিতা করে আসছিলেন। এ কারণে অডিট সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
তারা জানান, বিধি অনুযায়ী একজন অধ্যক্ষ সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা হাতে রাখতে পারেন। অথচ অধ্যক্ষ সরিফুল কামাল কলেজের ৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ নিজের কাছে রেখেছেন বলে অডিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অর্থ বিধিবহির্ভূত বলে মন্তব্য করে কমিটি অধ্যক্ষকে ৭০ লাখ ৪৭ হাজার ২৪০ টাকা কলেজের সাধারণ তহবিলে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
অডিট কমিটির আহ্বায়ক ও বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কাসেম বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে চুলচেরা বিশ্লেষণের পর পাঁচ সদস্যের অডিট কমিটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। কমিটিতে কলেজের দুজন শিক্ষকও ছিলেন। তাদের দায়িত্ব ছিল অডিট প্রতিবেদন জমা দেওয়া। পরবর্তী সিদ্ধান্ত কলেজ গভর্নিং বডি নেবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সরিফুল কামালের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ বিষয়ে সামনাসামনি কথা বলবেন বলে জানান।
কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি লুৎফর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে গভর্নিং বডির সদস্য সিকদার হাফিজুর রহমান বলেন, গভর্নিং বডির সভায় অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

