Google search engine
Homeঅন্যানোব্যাটারিচালিত যানবাহনের শ্রমিকবান্ধব নীতিমালার দাবিতে বরিশালে সমাবেশ-মিছিল

ব্যাটারিচালিত যানবাহনের শ্রমিকবান্ধব নীতিমালার দাবিতে বরিশালে সমাবেশ-মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য কেন্দ্রীয় সমন্বিত শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে বরিশালে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে রিকশা,ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক ও বরিশাল রিকশা-ভ্যান চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং-২৩২৪) সভাপতি দুলাল মল্লিক। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী।

এ সময় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বরিশাল রিকশা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা শহিদুল ইসলাম ও মহসিন মির, সহসভাপতি মনির হোসেন সর্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, প্রচার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সংগঠক রমজান আকনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন গ্লোবাল ক্যাপসুল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের (প্রস্তাবিত) সভাপতি জাহিদুল ইসলাম শাহাদাত ও অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সর্দার।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নীতিমালা, নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্সের দাবিতে গত ১৩ বছর ধরে সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার এসব যানবাহনের জন্য একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। তবে প্রস্তাবিত নীতিমালার নামে বিদ্যমান প্রায় ৬০ লাখ যানবাহন উচ্ছেদ এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির কাছ থেকে উচ্চমূল্যে যানবাহন কেনার সুযোগ তৈরি করা হলে তা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী হবে।

বক্তারা আরও বলেন, বিআরটিএ ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় নীতিমালা প্রয়োজন। তবে সেই নীতিমালা হতে হবে শ্রমিকবান্ধব। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্বার্থে বিদ্যমান যানবাহন উচ্ছেদ করা যাবে না। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়াকে বাধ্যতামূলক করার শর্ত প্রত্যাহার এবং পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানান তারা।

সমাবেশ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্থানীয় সরকার ও বিআরটিএর সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় নীতিমালার আওতায় ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদান; কোনো কোম্পানি বা সিন্ডিকেটকে অগ্রাধিকার না দিয়ে স্থানীয় উৎপাদকদের ই-রিকশা উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া; যানবাহন আধুনিকায়নে সরকারি ভর্তুকি ও কমপক্ষে দুই বছর সময় দেওয়া এবং এর আগে কোনো উচ্ছেদ অভিযান না চালানো।

এ ছাড়া মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন স্থাপন, লিথিয়াম ব্যাটারি প্রতিস্থাপনে সরকারি ভর্তুকি, লাইসেন্স ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বাধ্যতামূলক শর্ত প্রত্যাহার, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং অবৈধ চাঁদাবাজি, বিট বাণিজ্য, ব্যাটারি ও রিকশা চুরি-ছিনতাই বন্ধসহ নারী চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ থেকে গাইবান্ধায় সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক ও বাসদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সমন্বয়ক গোলাম রাব্বানীসহ নেতৃবৃন্দের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।

সমাবেশে সহস্রাধিক শ্রমিক ও চালক অংশ নেন। একপর্যায়ে তাদের অবস্থানের কারণে সদর রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মিছিল শেষে সংগ্রাম পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়। এতে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য আট দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং কেন্দ্রীয় সমন্বিত শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments